Precis – সারমর্ম – Bengali – WBPSC Miscellaneous Main Question Paper

 

Precise - সারমর্ম - Bengali - WBPSC Miscellaneous Main Question Paper

Precise – সারমর্ম – Bengali – Miscellaneous Main

Miscellaneous Main Question – 2023

১। নীচের গদ্যাংশটির মূল বক্তব্য নিজের ভাষায় সংক্ষেপে লিখুন  : ৪০

একটা লোকশিক্ষার উপায়ের কথা বলি — আজ আর নাই । কথকতার কথা বলিতেছি । গ্রামে গ্রামে, নগরে নগরে, বেদী পিঁড়ির উপর বসিয়া, ছেঁড়া তুলট, না দেখিবার মানসে সন্মুখে পাতিয়া, সুগন্ধি মল্লিকমালা শিরোপরে বেষ্টিত করিয়া, নাদুস নুদুস কালো কথক সীতার সতীত্ব, অর্জুনের বীরধর্ম্ম, লক্ষ্মণের সত্যব্রত , ভীষ্মের ইনদ্রজয়, রাক্ষসীর প্রেমপ্রবাহ, দধিচির আত্মসমর্পণ বিষয়ক সুসংস্কৃতের সদ্ব্যাখ্যা সুকন্ঠে সদলঙ্কার সংযুক্ত করিয়া আপামর সাধারণ সমক্ষে বিবৃত করিতেন । যে লাঙ্গল চষে, যে তুলা পেঁজে, যে কাটনা কাটে, যে ভাত পায় না পায়, সেও শিক্ষিত — শিক্ষিত যে ধর্ম নিত্য, যে ধর্ম দৈব, যে আত্মান্বেষণ আশ্রদ্ধেয়, যে পরের জন্য জীবন, যে ঈশ্বর আছেন, বিশ্ব সৃজন করিতেছেন, বিশ্ব পালন করিতেছেন, বিশ্ব ধ্বংস করিতেছেন, যে পাপ পুণ্য আছে, যে পাপের দণ্ড পুণ্যের পুরস্কার, যে জন্ম আপনার জন্য নহে, পরের জন্য, যে অহিংসা পরম ধর্ম, যে লক্ষিত পরম কার্য্য ।

 




 

Miscellaneous Main Question – 2019

১ । নীচের গদ্যাংশটির মূল বক্তব্য নিজের ভাষায় সংক্ষেপে (সর্বোরকৃত নির্দিষ্ট কাগজে) লিখুন  :  40

এক বৃদ্ধ কৃষকের সম্বন্ধে একটি সুন্দর গল্প আছে । তাহার মৃত্যুকাল উপস্থিত দেখিয়া সে তাহার অলস পুত্রদের একটি গোপনীয় কথা বলিয়া যাইবার জন্য তাহার শয্যার পার্শ্বে ডাকিয়া বলিল — “পুত্রগণ ! আমি যে শস্যক্ষেত্রটি তোমাদের জন্য রাখিয়া যাইতেছি, তাহাতে প্রচুর গুপ্তধন আছে ।” — এই কথাগুলি বলা শেষ হইলে বৃদ্ধের প্রায় শ্বাসরোধ হইয়া আসিল । তাহার পুত্ররা সমস্বরে বলিয়া উঠিল — “শস্যক্ষেত্রের কোন স্থানে উহা আছে ?” বৃদ্ধ বলিল — “খুড়িলেই সেই গুপ্তধন পাইবে ।” এই কথা বলা শেষ হইবামাত্র শ্বাসরোধ হইয়া বৃদ্ধের মৃত্যু হইল । গুপ্তধন ক্ষেত্রের ঠিক কোনখানে আছে, তাহা আর তাহার পুত্ররা জানিতে পারিল  না । পিতার মৃত্যুর পর পুত্ররা সমস্ত শস্যক্ষেত্রটি খুঁড়িয়া ফেলিল; কিন্তু কোথাও কোনো গুপ্তধন মিলিল না । তবে খোরাখুড়ির ফলে সেই বৎসর ঐ ক্ষেত্রটিতে প্রচুর ফসল ফলিল । ইহাই সেই পিতৃকথিত গুপ্তধন !

 

 

 

Miscellaneous Main Question – 2018

১। নীচের গদ্যাংশটির মূল বক্তব্য নিজের ভাষায় সংক্ষেপে (সর্বোরকৃত নির্দিষ্ট কাগজে)লিখুন :40

আমাদের দেশ প্রধানত পল্লীবাসী । এই পল্লী মাঝে মাঝে যখন আপনার নাড়ীর মধ্যে বাহিরের বৃহৎ জগতের রক্তচলাচল অনুভব করিবার জন্য উৎসুক হইয়া ওঠে , তখন মেলাই তাহার প্রধান উপায় । এই  মেলাই আমাদের দেশে বাহিরকে ঘরের মধ্যে আহবান । এই উৎসবে পল্লী আপনার সমস্ত সংকীর্ণতা বিস্মৃত হয় — তাহার হৃদয় খুলিয়া দান করিবার ও গ্রহণ করিবার এই প্রধান উপলক্ষ । যেমন আকাশের জলে জলাশয় পূর্ণ করিবার সময় বরসাগম , তেমনি বিশ্বের ভাবে পল্লীর হৃদয়কে ভরিয়া দিবার উপযুক্ত অবসর মেলা ।

এই মেলা আমাদের দেশে অত্যন্ত স্বাভাবিক । একটা সভা উপলক্ষে যদি দেশের ডাক দাও , তবে তাহারা  সংশয় লইয়া আসিবে , তাহাদের মন খুলিতে  অনেক দেরি হইবে — কিন্তু মেলা উপলক্ষে যাহারা  একত্র হয় তাহারা হৃদয় খুলিয়াই আসে — সুতরাং এইখানেই দেশের মন পাইবার প্রকৃত অবকাশ ঘটে । পল্লীগুলি যেদিন হাল -লাঙল বন্ধ করিয়া ছুটি লইয়াছে , সেইদিনেই তাহাদের কাছে আসিয়া বসিবার দিন।

 




 

Miscellaneous Question Paper – 2010

১।  নীচের গদ্যাংশটির মূল বক্তব্য নিজের ভাষায় সংক্ষেপে (সর্বোরকৃত নির্দিষ্ট কাগজে) লিখুন :  40

           সব ছবিরই দুটি দিক থাকে , বলবার কথা আর বলবার ভাষা ; প্রসঙ্গ আর আঙ্গিক । মূল পটুয়া ছবিকে দু’দিক থেকে দেখলেই বোঝা যাবে কেন একে শিল্পসাধনার অনিবার্য অধ্যায় বলতে হবে এবং কীভাবে শিল্পের সত্য এখানে আবিষ্কৃত হয়েছিল ।    

            পটুয়া শিল্পের বলবার কথাটা কী? নিঃসন্দেহে বিশ্বপ্রকিতির নিঁখুত প্রতিলিপি নয় , অথচ প্রকিতির মূল কথাটুকু নিশ্চিতভাবে উপস্তিত করা । বিশ্বপ্রকিতির সামান্য লক্ষণ যে আবেগ জাগায় , তাকে নগ্নভাবে প্রকাশ করাই ছিল এ ছবির উদ্দেশ্য। তাই পটের ছবিতে একটা গাছ দেখলে বুঝি যে , ওটা গাছ-ই ; তবু এ-গাছকে অন্য কোনো গাছের সঙ্গে মিলিয়ে নেবার উপায় নেই । অর্থাৎ গাছের সমান্য সংবাদটুকু আছে মাত্র , বিশেষ গাছের গ্লানিটি নেই । এ-দিক থেকে যে কোনো দেশের প্রাগৈতিহাসিক ছবির সঙ্গে মূল পটুয়া ছবির মিল অনেকখানি  । অন্যত্র-ও শিল্পীর আবেগ নির্ভর খুঁজেছে বস্তুর সামান্য স্বরুপে । তবু অন্যান্য দেশের  প্রাগৈতিহাসিক ছবির সঙ্গে পটুয়া তফাত-ও আছে । মূল পটুয়া ছবির আবেগ দানা বেঁধেছিল একটা পুরাণের উপর । এমনটা আর কোনো দেশের প্রাগৈতিহাসিক চিত্রে হয় না । সেসব চিত্রে হয়তো কোনো নাচের ছন্দ , কোনো মানুষ , কোনো হরিণ আঁকা হয়েছে — কিন্তু খাপছাড়াভাবে, সব মিলে সেটা একটা সম্পূর্ণ জগত নয় । বাংলার প্রাচীন পটুয়ারা কিছু এমন একটা সংহত জগতের সন্ধান পেয়েছিল, যা আগাগোড়া সামান্য-লক্ষণের জগৎ এবং পুরোপুরি পুরাণের উপর যার স্থিতি । সেখানে যে হনুমান , সে তো আর কোনো দৃষ্ট বানার নয় ; তার জন্ম-ইতিহাস বা তার ক্রিয়াকলাপ — কোনটিই মরলকের নয় — তবু বানর ব’লে তাঁকে চিন্তেও ভুল হয় না । পটুয়া শিল্পীদের বিশ্বাস এই জগতেই দানা বেঁধেছিল ।    

               তাছাড়া , আঙ্গিকের দিক থেকেও প্রাগৈতিহাসিক ছবির সঙ্গে পটুয়া ছবি পার্থক্য ছিল । প্রাগৈতিহাসিক ছবির অঙ্গসজ্জায় পোশকিভাবের কোনো স্পর্শ ছিল না , যা ছিল পটুয়া ছবিতে । এর কারণ , আমাদের দেশে পটুয়া ছবির পাশেই ছিল অভিজাত শিল্প ।

 

 

 

Miscellaneous Question Paper – 2009

১।  নীচের গদ্যাংশটির মূল বক্তব্য নিজের ভাষায় সংক্ষেপে (সর্বোরকৃত নির্দিষ্ট কাগজে) লিখুন :40

         প্রাগৈতিহাসিক যুগেও মানুষ প্রযুক্তির ব্যাবহার করত । নানা রকম পাথুরে যন্ত্রপাতি এবং সাধারণ হাতুড়ি আদিম মানুষের প্রযুক্তি-নৈপুণ্যের পরিচয় এখনও বহন করছে । সভ্যতার অগ্রগতির পথরেখায়  মানুষ এইভাবেই প্রস্তর যুগ থেকে ব্রোঞ্জ যুগে এবং ব্রোঞ্জ যুগ থেকে লৌহ যুগে উপনীত হয়েছে । মানুষ চাকর ব্যাবহার জেনেছে এবং বর্তমানে হালকা ধাতু এবং মহাকাশযানের যুগে বাস করছে । সাধারণ হাতুড়ির বদলে স্বয়ংক্রিয় চাপযুক্ত হাতুড়ির ব্যাবহার এবং অবিরাম জটিল কাজের জন্য যন্ত্রের  ব্যাবহার জরুরি হয়ে উঠেছে । শক্তির ক্ষেত্রে অবিরাম গবেষণা আমাদের যন্ত্রচালনার ক্ষমতা দিয়েছে । এইসব যন্ত্রের সহায়তায় আমরা স্বয়ংচালিত শিল্পের নতুন যুগে এসে পৌছেছি ।

         কিন্তু আমাদের আধুনিক প্রযুক্তি লাভ করুক না কেন, এই শিল্পবিকাশ আমাদের আদিম যুগের প্রবণতার স্বভাবিক ধারাবাহিকতার পরিণতি মাত্র । কারণ মৌল লক্ষ্য সব ক্ষেত্রেই অভিন্ন । কোথাও অধিক ফসলের জন্য , কোথাও বা আরও গতিবেগ লাভ করার জন্য শিল্পনৈপুণ্য প্রয়োজন । উন্নততর ও সহজতর জীবনযাপনের আকাঙক্ষা সর্বত্রই আজ প্রতক্ষ করা যায় ।

 




 

Miscellaneous Question Paper – 2007

৩। নীচের গদ্যাংশটির মূল বক্তব্য নিজের ভাষায় সংক্ষেপে লিখুন :      ৪০

নিন্দা না থাকিলে পৃথিবীতে জীবনের কী গৌরব থাকিত ? একটি ভালো কাজে হাত দিলাম, তাহার নিন্দা কেহ করে না — সে ভালো কাজের কী দাম ? একটা ভালো কিছু লিখলাম, তাহার নিন্দুক কেহ নাই, কোনো ভালো গ্রন্থের পক্ষে এমন মর্মান্তিক অনাদর আর কী হইতে পারে ? জীবনকে ধর্মচর্চায় উৎসর্গ করিলাম — যদি কোন লোক তাহার মধ্যে গূঢ় মন্দ অভিপ্রায় না দেখিল, তবে সাধুতা যে নিতান্তই সহজ হইয়া পড়িল । মহত্বকে পদে পদে নিন্দার কাঁটা মাড়াইয়া চলিতে হয় । ইহাতে যে হার মানে বীরের সদ্গতি সে লাভ করে না । পৃথিবীতে নিন্দা দোষীকে সংশোধন করিবার জন্য আছে তাহা নয় — মহত্বকে গৌরব দেওয়া তাহার একটা মস্ত কাজ ।

 

 

 

Miscellaneous Question Paper – 2006

৩ । নীচের গদ্যাংশটির মূল বক্তব্য নিজের ভাষায় সংক্ষেপে লিখুন :      ৪০

ভারতবর্ষ তার দুর্গতিদুর্গে যে রুদ্ধদ্বারে শতাব্দীর পর শতাব্দীর যাপন করেছে — আপনার ধর্মকে সমাজকে, আপনার আচার-ব্যবহারকে কেবলমাত্র আপনার কৃত্তিম গণ্ডির মধ্যে বেষ্টিত করে বসে রয়েছে — সেই দ্বার বাইরের পৃথিবীর প্রবল আঘাতে আজ ভেঙে গেছে । আজ আমরা সকলের কাছে প্রকাশিত হয়ে পড়েছে, সকলের সঙ্গে আজ আমাদের নানা প্রকার ব্যবহারে আসতে হয়েছে । আজ আমাদের যেখানে চরিত্রের দীনতা, জ্ঞানের সংকীর্ণতা, হৃদয়ের সংকোচ, যেখানে যুক্তিহীন আচারের দ্বারা আমাদের শক্তিপ্রয়োগের পথ পদে পদে বাধাগ্রস্থ হয়ে উঠেছে, যেখানেই লোকব্যবহারে ও দেবতার উপাসনায় মানুষের সঙ্গে মানুষের দুর্ভেদ্য ব্যবধানে আমাদের শতখন্ড করে দিচ্ছে, সেখানেই আমাদের আঘাতের পর আঘাত, লজ্জার পর লজ্জা পেতে হচ্ছে — সেখানেই অকৃতার্থতা বারম্বার আমাদের সমস্ত চেষ্টাকে ধূলিসাৎ করে দিচ্ছে এবং সেখানেই প্রবল-বেগে-চলশীল মানবস্রোতের অভিঘাত সহ্য করতে না পেরে আমরা মুর্ছিত হয়ে পড়ে যাচ্ছি । এই রকম সময়েই যে সকল মহাপুরুষ, আমাদের দেশে মঙ্গলের জয়ধ্বজা বহন করে সামঞ্জস্যকে সমুজজ্বল করে তোলা যাতে করে এখনকার জনসমাজের সেই সাংঘাতিক বিশ্লিষ্টা দূর হবে — যে বিশ্লিষ্টতা এদেশে অন্তরের সঙ্গে বাইরের, আচারের সঙ্গে ধর্মের, জ্ঞানের সঙ্গে ভক্তির, বিচারশক্তির সঙ্গে বিশ্বাসের  সঙ্গে মানুষের প্রবল বিচ্ছেদ ঘটিয়ে আমাদের মানুষ্যত্বকে শতজীর্ণ করে ফেলেছে ।

 





 

Miscellaneous Question Paper – 2005

৩।  নীচের গদ্যাংশটির মূল বক্তব্য নিজের ভাষায় সংক্ষেপে লিখুন :      ৪০

দেশ জিনিসটা তো কাহাকেও নিজের শক্তিতে উপার্জন করিয়া আনিতে হয় নাই । আমরা যে পৃথিবীতে এত জায়গা থাকিতে এই বাংলাদেশেই জন্মিতেছি ও মরিতেছে, সে তো আমার নিজগুণ নহে, এবং  বাংলাদেশেরও বিশেষ পুণ্যপ্রভাবে এমনও বলিতে পারি না । দেশ পশু-পক্ষী কীটপতঙ্গেরও আছে-কিন্তু স্বদেশে নিজে সৃষ্টি করিতে হয় । সেইজন্যই স্বদেশে কেহ হাত দিতে আসিলে স্বদেশীমাত্রেই উত্কণ্ঠিত হইয়া উঠে, কেন না, সেটা যে বহুকাল হইতে তাহাদের নিজের গড়া-সেখানে যে তাহাদের বহুযুগের আহরিত মধু সমস্ত সঞ্চিত হইয়া আছে । যে সকলে দেশের লোক তাহাদের শরীর মনবাক্যে সমস্ত চেষ্টার দ্বারা জ্ঞানে-প্রেমে-কর্মে স্বদেশকে আপনি গড়িয়া তুলিতেছে, দেশের অন্নবস্ত্র স্বাস্থেজ্ঞানের সমস্ত অভাব আপনি পূরণ করিয়া তুলিতেছে, দেশকে তাহারেই স্বদেশ বলিতে পারে, এবং স্বদেশে জিনিসটা যে কি, তাহাদিগকে বক্তৃতা করিয়া বুঝাইতেও হয় না ; – মৌমাছিকে আপন চকের মর্যাদা বুঝাইবার জন্য বড়ো বড়ো পুঁথির দোহাই পর সম্পূর্ণ অনাব্যশক ।

 

 

 

Miscellaneous Question Paper – 2004

৩।  নীচের গদ্যাংশটির মূল বক্তব্য নিজের ভাষায় সংক্ষেপে লিখুন :      ৪০

কিন্তু আমাকে গোটাকতক কথা বুঝাইয়া দাও । তোমার বাহ্য সম্পদে কয়জন অভদ্র ভদ্র হয়েছে ?  কয়জন অশিষ্ট শিষ্ট হইয়াছে ? কয়জন অধার্মিক ধার্মিক হইয়াছে ? কয়জন অপবিত্র হইয়াছে ? একজনও না ? যদি না হইয়া থাকে, তবে তোমরা এই ছাই আমরা চাই না — আমি হুকুম দিতেছি এ ছাই ভারতবর্ষ হইতে উঠাইয়া দাও ।

তোমাদের কথা আমি বুঝি । উদর নামে বৃহৎ গহ্বর, ইহা প্রত্যহ বুজান চাই ; নহিলে নয় । তোমরা বল যে, এই গর্ত যাহাতে সকলেরই ভাল করিয়া বুজে, আমরা সেই চেষ্টায় আছি । আমি বলি, সে মঙ্গলের কথা বটে , কিন্তু উহার মত বাড়াবাড়িতে কাজ নাই । গর্ত বুজাইতে তোমরা এমনই ব্যস্ত হইয়া উটিতেছ যে , আর সকল কথা ভুলিয়া গেলে । বরং গর্তের এক কোণ খালি থাকে, সেও ভাল, তবু আর একদিকে একটু মন দেওয়া উচিত । গর্ত বুজান হইতে মনের সুখ একটা স্বতন্ত্র সমগ্রী ; তাহার বৃদ্ধির কী কোন উপায় হইতে পারে না ? তোমরা এত কল করিতেছ, মনুষ্যে মনুষ্যে প্রণয় বৃদ্ধির জন্য কী একটা কিছু কল হয় না ? একটা বুদ্ধি খাটাইয়া দেখ নহিলে সকল বেকল হইয়া যাইবে ।

 




 

Miscellaneous Question Paper – 2003

৩।  নীচের গদ্যাংশটির মূল বক্তব্য নিজের ভাষায় সংক্ষেপে লিখুন :     ৪০

মনের উপর আমাদের বিদ্বেষ এতই সুগভীর যে , যে কাজে তাহার হাত কম দেখা যায় তাহাকেই আমরা সবচেয়ে অধিক প্রশংসা করি । নীতি গ্রন্থেহটকারিতার নিন্দা আছে বটে , কিন্তু প্রকিতপক্ষে  তাহাদের প্রতি আমাদের আন্তরিক অনুরাগ দেখিতে পাই । যে ব্যক্তি অত্যন্ত বিবেচনা পূর্বক  অগ্রপশ্চাৎ ভাবিয়া অতি সতর্কভাবে কাজ করে তাহাকে আমরা ভালবাসি না , কিন্তু যে ব্যক্তি সর্বদা নিশ্চিন্ত, অম্লানবদনে বেফাঁস কথা বলিয়া বসে এবং অবলীলাক্রমে বেয়ারা কাজ করিয়া ফেলে , লোকে ঋণের আবশ্যক হইলে তাহার নিকট গমন করে এবং তাহাকে মনে মনে অপরাধী করে , আর যে নির্বোধ নিজের ও পরিবারের ভবিষৎ শুভাশুভ গমনামাত্র না করিয়া যাহা পায় তৎক্ষণাৎ মুক্ত হয়ে ধায় করিয়া বসে , লোকের অগ্রসর হইয়া তাহাকে  ঋণদান করে এবং সকল সময় পরিষদের প্রত্যাশা রাখে না । অনেক সময় অবিবেচনা অর্থাৎ মনোবিহীনতাকেই আমরা উদারতা বলি এবং যে মানস্বী হিতাহিত জ্ঞানের অনুদেশক্রমে যুক্তির হাতে লইয়া অত্যন্ত কঠিন , সংকল্পের সহিত নিয়মের চুল চেরা পথ ধরিয়া চলে , তাহাকে লোকে হিসাবী , বিষয়ী সংকীর্ণমনা প্রভৃতি অপরাদসূচক কথা বলিয়া আছে এইটুকু কে ভলাইতে পারে তাহাকেই বলি মনোহর । মনের বোঝাটা অবস্থায় অনুভব করি না সেই অবস্থাকে বলি আনন্দ । নেশা করিয়া বরং পশুরমত হইয়া যাই , নিজের সর্বনাশ করি , সেও স্বীকার তবু কিছুক্ষণের জন্য খনার মধ্যে পড়িয়াও সে উল্লাস সম্বরণ করিতে পারি না । মন যদি (jotharto) আত্মীয়ের মত ব্যবহার করিত, তবে জি এমন উপকারী লোকটার প্রতি এতটা দূর অকৃতজ্ঞতার উদয় হইত ।

 

 

 

Miscellaneous Question Paper – 2002

৩ । নীচের গদ্যাংশটির মূল বক্তব্য নিজের ভাষায় সংক্ষেপে লিখুন :      ৪০

বিদ্যাসাগরের বাহিরটাই ব্রজের মতো কঠিন , ভিতরটা পুষ্পের অপেক্ষাও কোমল । রোদন ব্যাপার বড়োই গর্হিত কর্ম , বিজ্ঞের নিকট ও বিরাগীর নিকট অতীব নিন্দিত । কিন্তু এইখানেই বিদ্যাসাগরের অসাধারণত্ব ; এইখানেই তাঁহার প্রাচ্যত্ব । প্রতিচ্য দেশের কথা বলিতে পারি না , কিন্তু প্রাচ্য দেশের রোদন প্রবণতা মনুষ্য চরিত্রের যেন একটা প্রধান অঙ্গ । বিদ্যাসাগরের অসাধারণত্ব এই যে , তিনি আপনার সুখস্বাচ্ছনদ্যকে তৃণের অপেক্ষা তুচ্ছ গণনা করিতেন । দারিদ্রের দুঃখ দর্শনে তাঁহার হৃদয় টলিত , বান্ধবের মরণ শোকে তাঁহার ধৈর্যচ্যুতি ঘটিত । জ্ঞানের উপদেশ ও বৈরাগ্যের উপদেশ তাঁহার নিকট এ সময় ঘেঁষিতে পারিত না । বিদ্যাসাগর একজন সমাজ সংস্কারক ছিলেন । তিনি নিজেই বলিয়াছেন বিধবা-বিবাহে পথপ্রদর্শন তাঁহার জীবনের সর্বপ্রধান সৎকর্ম । বস্তুত এই বিধবা-বিবাহ ব্যাপারে আমরা ঈশ্বরচন্দ্রের সমগ্র মূর্তিটি দেখিতে পাই । কোমলতা ও কঠোরতা উভয় গুণের আধররূপে তিনি লোক সমক্ষে প্রতীয়মান হয়েন । প্রকৃতির নিষ্ঠুর হস্তে মানব নির্যাতন তাঁর কোমল প্রাণকে দিবানিশি ব্যাথিত রাখিত ; দুর্বল মানুষের প্রতি নিষ্করুণ প্রকৃতির অত্যাচার তাঁহার হৃদয়ের মর্মস্থলে ব্যথা দিত ; তাহার উপর মনুষ্য-বিহিত সমাজ-বিহিত অত্যাচার তাঁহার পক্ষে নিতান্তই অসহ্য হইয়াছিল । বিধাতার কৃপায় মানুষের দুঃখের ত অভাব নেই , তবে কেন মানুষ আবার সাধ করিয়া আপন দুঃখের বোঝার ভার চাপায় ! ইহা তিনি বুঝিতেন না , এবং ইহা তিনি সহিতেনও না । বালবিধবার দুঃখ-দর্শনে তাঁহার হৃদয় বিগলিত হইল ; এবং সেই বিগলিত হৃদয়ের প্রশ্রবণ হইতে করুণামন্দাকিনীর ধারা বহিল । সুরনদী যখন ভুমিপৃষ্ঠে অবতরণ করে , তখন কার সাধ্য যে , সে প্রবাহ রোধ করে ।

You cannot copy content of this page

Home
Search
Mock Tests
Menu
×